আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এশিয়া অঞ্চলে একের পর এক ভূমিকম্প হচ্ছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, জাপানের পর এবার কাঁপল ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল। তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে দেশ দুইটিতে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.২। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৫২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাজারকোটের পাইক এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ওই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। নেপালের এই ভূমিকম্পে দিল্লিসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানও কেঁপে উঠেছে।

এদিকে, পাপুয়া নিউ গিনির উপকূলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি করে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

৭.১ মাত্রার এ ভূমিকম্প প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনির নিউ ব্রিটেন অঞ্চলের উপকূলে আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র একটি সতর্কতা জারি করেছিল, যেখানে পাপুয়া নিউ গিনির কিছু উপকূলীয় এলাকায় তিন মিটার পর্যন্ত ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা নিয়েছে।

শনিবার (৫ এপ্রিল) ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ৪৯ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি নিউ ব্রিটেন অঞ্চলের ১৯৪ কিলোমিটার পূর্বে কেন্দ্রীভূত ছিল। নিকটবর্তী সলোমন দ্বীপপুঞ্জে ০.৩ মিটার উচ্চতার ছোট ঢেউয়ের সম্ভাবনার ব্যাপারে যে সাবধানতা জারি করা হয়েছিল, তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিউ ব্রিটেন দ্বীপের জনসংখ্যা পাঁচ লাখের একটু বেশি। তবে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পাপুয়া নিউ গিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘আগ্নেয় বৃত্তে’ অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে বিস্তৃত একটি ভূকম্পন সক্রিয় এলাকা এবং যেখানে বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ০৫, ২০২৫)