ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঈদের দিন দুপুর সাড়ে ১২টা। পরিবারের সবাই আনন্দে ব্যস্ত। রিমা খাতুন নামের এক গর্ভবতী নারীর কপালে চিন্তার ভাজ। ছুটির দিনে প্রসূতি সেবা তিনি শংকায় পড়ে যান তিনি। সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতলে চলছে টানা ছুটি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও যে যার মতো গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে গেছেন। এদিকে প্রসব বেদনা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে রিমার। উপায় না পেয়ে স্বামী উজ্জল হোসেনের সঙ্গে আসলেন ঝিনাইদহ শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা নারী রিমা খাতুনকে দেখে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মুর্শিদা পারভীন দ্রুত তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব করলেন রিমা খাতুন। হাফ ছেড়ে বাঁচলেন রিমা ও তার স্বজনেরা। শুধু রিমা খাতুনই নয়, ঈদের টানা ছুটিতে এভাবেই একাধিক প্রসূতি নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে গেছেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা।

শহরের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা উজ্জল হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটির দিন আমার প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে মহাচিন্তায় ছিলাম। তবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সেবা চালু থাকায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। এখানে সেবা পেতে তেমন টাকাও খরচ হয়নি।’

ঝিনাইদহ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবা আখতার তাবিয়া বলেন, ‘ঈদের টানা ছটির মধ্যে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ভিজিটর ও কর্মচারীদের সার্বিক সহায়তায় এমন সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জেলার মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতেও প্রসূতিদের স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে। আগত সেবা প্রত্যাশীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত সেবা প্রদান অব্যাহত ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘চলমান ছুটির মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।’

(একে/এসপি/এপ্রিল ০৪, ২০২৫)