সেনাসদ্যসের বৈঠক ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড়, ঘটনা সাজানো দাবি করে মানববন্ধন

কেন্দুয়া প্রতিনিধি : কেন্দুয়া উপজেলা গড়াডোবা ইউনিয়ের ওয়াই গ্রামের মৃত ফজলে এলাহির ছেলে সেনাসদস্য আরিফুজ্জামানের বাড়ির বৈঠক ঘর কে বা কারা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সারা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বৈঠক ঘরে থাকা একটি মটর সাইকেল ও কাঠের আসবাবপত্র সহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আরিফুজ্জামানের ছোট ভাই সোহেল রানা বাদি হয়ে একই গ্রামের আলী উসমানের ছেলে নজরুল ইসলাম, আব্দুস সুবানের ছেলে কামরুল ও সাইদুল ইলামের ছেলে মেহেদীর নাম এজহারে উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে ২৩ মার্চ কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজহার ভুক্ত আসামী কামরুলকে পুলিশ ওই দিন রাতেই গ্রেফতার করে। কামরুল গ্রেফতারের পর থেকেই গ্রামের মানুষ ফুঁসে উঠেন। তারা ২৪ মার্চ কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে একটি মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। মানব বন্ধন কর্মসূচীর শেষে আগুনে পুড়ানোর ঘটনা সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারে দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরারব একটি স্মারক লিপি পেশ করেন।
সেনা সদস্য আরিফুজ্জামান জানান, একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে এজাহার ভুক্ত আসামীরা আমার বোনের বিয়ের ভেঙে দিতে নামে বেনামে বিভিন্ন চিঠি লিখে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে টানিয়ে রাখছে। এক বছর আগে আমাদের জমিতে মাটি কেটে গর্ত ভরাট করার প্রতিবাদ করলে ওই গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য সোনা মিয়া আমার গলায় দা লাগিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্ঠা করে। এ ঘটনায় আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু পরদিন তারা আমার বাড়িতে এসে আমার উপর হামলা চালায়। সে সময়ে এই হামলার ঘটনার বিচার চাইলে পুলিশ আমাকে বলেন, গড়াডোবা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এই ঘটনা মিমাংসা করবেন বলে সে সময়ে আইনগত ভাবে আমাকে আর কোন সহায়তা করা হয়নি। আমি তখন থেকেই নির্যাতিত হয়ে আসছি। গত ২২ মার্চ রাত অনুমান ১ ঘটিকা হতে উক্ত রাত অনুমান ২ টার মধ্যে যে কোন সময় আমার বৈঠক ঘরে পেট্রল ঢেলে বসতবাড়ির টিনের চৌচালা ঘরটি আগুনে পুড়ে দেয়। আগুনে এই ঘরে রাখা একটি মটর সাইকেল ও কাঠের মূল্যবান আসবাবপত্র সহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মামলার বাদি সুহেল রানা জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আমরা আমাদের বাড়িঘরে থাকতে পারছি না। আমাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমাদের দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা বলে দাবি করে তা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। সেনা সদস্য আরিফুজ্জামানের মা তাছমীনা আক্তার বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদেরকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা চালাচ্ছে। আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য বারবার চেষ্ঠা করছে। বৈঠক ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
গড়াডোবা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াই গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, আমার নাম লিখে কে বা কারা আরিফুজ্জামানের বোনের বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে চিঠি ফেলে রেখেছে। কিন্তু আমি এসবের কিছুই জানি না। তাছাড়া সেদিনের বৈঠক ঘরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি নিজে সহ গ্রামের অনেক মানুষ নিভাতে গিয়েছি। তবে গ্রামের মানুষ দাবি করছেন সিধ কেটে ঘরে ঢুকে কেউ আগুন লাগায় না। কিন্তু সোহেল রানা মামলার এজাহারে তাই লিখেছেন। গ্রামবাসি আগুন লাগানের ঘটনাকে সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত বিচার দাবি করছি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জানতে চাইলে কেন্দুয় থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, বাদির লিখিত এজাহার পেয়ে আমরা মামলা রেকর্ড করেছি। এজাহার ভুক্ত একজন আসামীকে গ্রেফতারের পর সারা গ্রামের মানুষ ফুঁসে উঠেছেন। সোমবার গ্রামের মানুষ ওই মামলা সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করে মানব বন্ধন করেছে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে। তারা মামলা প্রত্যাহপারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে। ঘটনার উত্তেজনা থামাতে কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: গোলাম মোস্তফা সহ আমি সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বাদি সাক্ষি ও অন্যান্য লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আগুন লাগার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করলেও আমরা সুষ্ঠ তদন্ত করে এর আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্ঠা করছি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সকলকে আন্তরিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
(এসবি/এসপি/মার্চ ২৫, ২০২৫)