স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে ভাব গাম্ভীর্য পরিবেশ পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস। আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন আয়োজিত দিবসের প্রথম প্রহরে পঞ্চগড় জেলা সদরের বুক চিঁড়ে প্রবাহিত করতোয়া তীরের বধ্যভূমিতে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী (যুগ্মসচিব)র নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলার বিভিন্ন স্তরের সরকারি, বেসরকারি কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ স্বাধীনতাকামী নেতৃস্থানীয়রা।

সকাল সাড়ে দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী (যুগ্মসচিব) সভাপতিত্ব করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম ইমাম রাজী টুলুর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা জামায়াতে ইসলামের আমির অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, বীরমুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম ও পঞ্চগড় জেলা মৎস কর্মকর্তা এ কে এম আব্দুল হালিম প্রমূখ।

জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বলেন, '৭১'র গণহত্যা ছিল পাকিস্তানিদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে মেধাশূণ্য এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার। তা তারা পারেনি। রক্ত, সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ গ্রহণকারী সরাব প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশের জন-মানুষের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সরকার বাস্তবায়নের জন্য অন্তবর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছেন।'

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, '২৫ মার্চ রাতের গণহত্যা ছিল টার্গেট কিলিং, ওই রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ইপিআর ঘাটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কর্মচারীদের টার্গেট করে হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা পৃথিবীর ইতিহাসের কালো অধ্যায় নামে কলংক বহন করছে।'

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানীদের গণহত্যার প্রাক্কলে শেখ মুজিবুর রহমান নিজে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাঁচানোর জন্য পাকিস্তানি সেনাদের কাছে সারেন্ডার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের খুব কাছের নেতা তাজ উদ্দীন তাঁকে আগেই এ ধরণের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবার খবর দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার আহ্বান জানান, শেখ মুজিবুব রহমান তখন তাজ উদ্দীনকে বলেছিল, তাজ উদ্দীন, তুমি এই নিয়ে চিন্তা করো না, নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। পরে পরিস্থিতির ক্রান্তীকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২৫ মার্চের ভয়াবহ হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, যে যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হয়েছে। লাখো মা বোনের ইজ্জত লুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সেই সেনাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।'

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসাইন তাঁর বক্তব্যে বলেন, '১৯৬৫ সালে রাও ফরমানরা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার জন্য অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক নির্বাচন করে এই দেশ শোষণ করতে চেয়েছিল, জনগণ তা করতে দেয় নি। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়, তখন শেখ মুজিবুর রহমান ধান্ডমন্ডির ৩২ নম্বরে ঘুমাচ্ছিল।'

বীরমুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে, ২৫ মার্চের ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন এবং দৃঢ়চিত্তে মুক্তিযুদ্ধের বেসামরিক অগ্রনায়ক শেখ মুজিবুর রহমান, তাজ উদ্দীন, তোফায়েল আহম্মদ, সামরিক বাহিনীর জিয়াউর রহমানসহ সকল স্বাধীনতাকামী মুক্তিসেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

(আরএআর/এসপি/মার্চ ২৫, ২০২৫)