সাংবাদিকের বাবা-মাসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় থানায় মামলা, আটক ১
রিয়াজুল রিয়াজ, ফরিদপুর : ফরিদপুরের মধুখালীতে আজকের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক সৌগত বসুর বাবা-মাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে থানায় মামলা করেছেন ওই সাংবাদিক।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে মধুখালী থানায় সাংবাদিক সৌগত বসু দেওয়া অভিযোগটি রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে এবং ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মামলাটির এজাহারে সাংবাদিক সৌগত বসু উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের ডুমাইনের বাড়িতে এক দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। এই সময় বাড়িতে মা, বাবা ও প্রতিবেশি (গৃহকর্মি) প্রীতি মালো অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ প্রীতি বাড়িতে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে বাদীর বাবাকে জানান যে, 'তারা যে ঘরে আছেন, সেই ঘরে কেউ একজন উকি দিচ্ছে'। প্রীতি মালোর কথা শুনে বাদীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা বিছানা থেকে নেমে বাইরে আসেন। ঘরটি দুই তলা বিশিষ্ট হওয়ায় বাবা নীচতলার কক্ষগুলোতে খুঁজতে থাকেন। সেখানে কাউকে না পেয়ে তিনি সিঁড়ি বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকেন, ওই সময় প্রীতি মালোও তাঁর পেছন পেছন উঠতে থাকে।
দুই তলা ওঠার সিঁড়ির শেষ প্রান্তে পৌঁছলে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি বাদীর বাবার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই সময় প্রীতি মালো সিঁড়ির ওপর উঠে আসলে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি তাকেও আঘাত করে। প্রীতির সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তারা দুজনেই নিচে নেমে আসে। এসময় প্রীতি অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র কেড়ে নিতে চাইলে সে প্রীতির হাতে কোপ দেয় ও মাথায় আঘাত করে।
শব্দ শুনে ওই সাংবাদিকের মা সিঁড়ির মুখে এসে দাঁড়ালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মায়ের মাথায়ও আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় প্রীতি দৌড় দিয়ে বাড়ির প্রধান ফটক খুলে চিৎকার করে মানুষ ডাকতে থাকে। সেই সুযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমরুল হাসান জানান, 'ওই হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক যুবককে থানায় আনা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততা পেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এছাড়া ইতিমধ্যে সনাক্ত হওয়া অন্য এক যুবককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে'। ওই হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, ডুমাইনে ওই হামলায় সাংবাদিকের আহত বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল বসু বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে। ওই হামলায় সাংবাদিকদের মা ও তাদের গৃহকর্মীও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধারনা করা হচ্ছে ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে, যাদের মধ্যে দু'জন ছিলো স্থানীয় মাদকাসক্ত ১৮-১৯ বছর বয়সী যুবক শ্রেনীর ব্যক্তি।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, ডুমাইনের বিখ্যাত জমিদার রামলাল বাবুর নাতি শ্যামল বসুর বনেদি পরিবারের দুই সন্তানের সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে। এজন্য তাঁর বাড়িতে অনেক সোনা-গহনা পাওয়া যেতে পারে; এমন চিন্তা করেই হয়তো ডাকাতেরা সেখানে হানা দিয়েছিলো।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করে আরো বলেন, 'মধুখালী থানা পুলিশ ওই নেক্কারজনক হামলার ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করে ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি'।
(আরআর/এএস/জানুয়ারি ০৫, ২০২৫)