সোহেল সাশ্রু, কিশোরগঞ্জ : উচ্চতাপ অতিবৃষ্টি আর ভাইরাস জনিত কারণে চারা উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা এড়াতে নির্মান করা হয়েছে পলিনেট হাউস। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের অর্থায়নে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর এলাকায় পলিনেট হাউস নির্মিত হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত চারার সুফল পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা। উৎপাদিত উন্নত জাতের চারা থেকে অধিক ফলন পাওয়ায় পাশর্^বর্তী অঞ্চলেও বাড়ছে এ চারার চাহিদা। কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন পলিনেট হাউসের উৎপাদিত চারা রোপনে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভৈরবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহন করেছে। এ পদ্ধতিতে পলিনেট হাউসে বার মাসই উৎপাদন হচ্ছে উন্নত জাতের বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চারা। ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের অর্থায়নে কালিকাপ্রসাদের মিরারচরে ১০ শতক জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে পলিনেট হাউস। কৃষকরা পাশ^বর্তী উপজেলা থেকে সংগ্রহকৃত চারাগুলোর গুণগতমান ভাল না হওয়ায় রোপনের পর অধিকাংশ চারাই নষ্ট হয়ে যেত।

কৃষকরা এখন পলি হাউসের জৈব সার দিয়ে উৎপাদিত কম দামে সুন্দর ও সুস্থ সবল চারা পাচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে পলিথিন ও নেট দিয়ে তৈরি এ ঘরে বার মাসই চারা উৎপাদন করা হয়। এখানে নারিকেলের ছোবরায় তৈরি কোকোপিটে চারা উৎপাদন করায় চারাগুলোতে ভাইরাস ও পোকামাকড়ের উপদ্রব হয়না। চারা উৎপাদনের মাত্র ২০ দিন পরই জমিতে রোপণ করা যায়। চারা রোপনের পর সার বা বৃষ্টির পানির প্রয়োজন হয়না। উচ্ছ মূল্যের ফসলগুলোর মধ্যে ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, শিম, লাউ, কাচা মরিচ, পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে।

কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, পলিনেটের উৎপাদিত চারাগুলোতে ভাইরাস ও পোকামাকড়ের উপদ্রব হয়না। এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের ২০ দিন পর জমিতে রোপণ করা যায়। ফসল উৎপাদনে কোনো রাসায়নিক বা কীটনাশকের প্রয়োজন নেই। চারা রোপনের পর সার বা বৃষ্টির পানির প্রয়োজন হয়না। স্থানীয়ভাবে এখানে পলিনেট হাউস হওয়ায় এর সুফল পাচ্ছে স্থানীয় কৃষকসহ বাহির অঞ্চলের কৃষকরাও।

উদ্যোক্তা ময়নুদ্দিন মিয়া বলেন, পলি হাউসের জৈব সার দিয়ে উৎপাদিত কম দামে সুন্দর ও সুস্থ সবল চারা কিনতে পারছেন। এখানে আধুনিক পদ্ধতিতে পলিথিন ও নেট দিয়ে তৈরি ঘরে মাটির পরিবর্তে নারিকেলের ছোবরায় তৈরি কোকোপিটে চারা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এখান থেকে চারা নিয়ে কৃষকরা সুফল পাচ্ছে।

কৃষক ওয়াহাব আলী ও নুরু মিয়া বলেন, পলিনেট হাউস থেকে লাউ আর কুমড়ার চারা এনে জমিতে রোপন করেছি। ২ মাসের মধ্যেই ভাল ফলন পেয়েছি। ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার লাউ এ পর্যন্ত বিক্রি করেছি। জমিতে এখন আরো লাউ রয়েছে। ঐগুলো বিক্রি করে আরো ভালো টাকা উপার্জন করতে পারবো বলে আশা করছি।

(এসএস/এএস/নভেম্বর ০৯, ২০২৪)