E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সহিংসতার মূল কারণই চাঁদাবাজি’

২০২৫ এপ্রিল ০৩ ১৮:০৭:১৪
‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সহিংসতার মূল কারণই চাঁদাবাজি’

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদাবাজি বন্ধ করা না গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সহিংসতার মূল কারণই  চাঁদাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙ্গামাটির বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, স্যুট কোট পড়া লোকেরাই বড় বড় কথা বলে চাঁদাবাজি জিইয়ে রাখে। কোনো অবস্থাতেই এসব চাঁদাবাজি সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কঠোর হাতে এদের দমন করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ৫ আগস্ট অনেক অস্ত্র লুট হয়েছে। যা এখনও উদ্ধার হয়নি। এগুলো উদ্ধারের কাজ চলছে। বাহিনীগুলোর লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যা ও গুজব রটাচ্ছে। তাদের কিছু মিডিয়ার কাজই হচ্ছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যা প্রচার। বাংলাদেশের মিডিয়াতে সত্য প্রচারের মধ্য দিয়ে এর জবাব দিতে হবে। সঠিক সংবাদ দিয়ে গুজব বন্ধ করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জান সিদ্দিকী, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাঙ্গামাটির সাজেক পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিজিবির হেলিকপ্টারে করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পার্বত্য উপদেষ্টা রাঙ্গামাটির বাঘাইহাট এলাকায় ৫৪ বিজিবির বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ান এবং সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন পরিদর্শন করেন। তখন তিনি স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এরপর বাঘাইহাট থেকে দুপুর ১টার দিকে ২৭ বিজিবির সাজেক বিওপিতে পৌছান তিনি। সেখানে বিজিবির ক্যানাটিন সীমান্ত শৈলিতে স্থানীয় হেডম্যান (মৌজা প্রধান), কার্বারীর (পাড়া প্রধান) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তোলে দেন। সাজেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নির্বাপনের গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার জন্য সংস্থাটির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ শাখা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ব্যুরো চিফ), পিলখানা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইয়াছির জাহান হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপ মহাপরিচালক (পূর্ত) কর্নেল সোহেল আহমেদ, পরিচালক (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা) লে. কর্নেল মো. আতিফ সিদ্দিকী, পিএস টু ডিজি বিজিবি লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরুকী, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আবু নোমান সরকার, এডিসি টু ডিজি বিজিবি ক্যাপ্টেন সাকিব হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একান্ত সচিব (সিনিয়র সহকারী সচিব) কাজী হাফিজ আমিন ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামস আরমান।

প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ১৯৯০ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ১৯৯২ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাঘাইহাটে কর্মরত ছিলেন।

(ওএস/এসপি/এপ্রিল ০৩, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

০৪ এপ্রিল ২০২৫

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test