E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন ও সাধারণ সম্পাদক অয়ন গ্রেপ্তার, কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ

২০২৫ জানুয়ারি ২৫ ১৮:৩৪:৫৪
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন ও সাধারণ সম্পাদক অয়ন গ্রেপ্তার, কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপডজেলার ঝাউডাঙা বাজারে আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অবরোধ ও হরতাল কর্মসুচি চলাকালে হাফিজুর রহমান নামের এক ছাত্র শিবির কর্মী ও ভ্যানচালককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তানভির হুসাইন সুজন ও সাধারণ সম্পাদক এহছানুল হাবিব অয়নকে সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদেরকে সাতক্ষীরার বাইপাস সড়কের বকচরা মোড়ের ইসমাইল মিষ্টি হাউজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত তানভির হুসাইন সুজন শহরতলীর বকচরা গ্রামের এসএম হাসানউল্লাহর ছেলে ও এহছানুল হাবিব অয়ন শহরের সুলতানপুরের শেখ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ এর ছেলে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক ফারুখ আলী মন্ডল জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন ও সাধারণ সম্পাদক নয়নকে শহরতলীর বাইপাস সড়কের বকচরা মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঝাউডাঙা বাজারে গোবিন্দকাটি গ্রামের ছাত্রশিবির কর্মী হাফিজুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় সন্ধিগ্ধ আসামী । তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। শুনানী শেষে বিচারক তনিমা মন্ডল তাদেরকে কারাফটকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামীপক্ষে মামলাটি শুনানী করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. এম শাহ আলম ও অ্যাড. জিয়াউল ইসলাম জিয়া।

তিনি বলেন, এ মামলার এক থেকে ১১ নং আসামী পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। মামলায় ২ নং আসামী কাজী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নাকের উপর গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অথচ এজাজারভুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। আর এজাহারে নাম না থাকলেও সুজন ও অয়নকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিএসআই মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমা্ড প্রয়োজন বলে দাবি করেন।

মামলার বিবরনে জানা যায়, সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের লোকমান দফাদারের ছেলে হাফিজুর রহমান (২২) একজন শিবির কর্মী ও ভ্যানচালক। একই গ্রামের বরকতুল্লাহ এর ছেলে মামলার বাদি সলেমান সরদার নিহত হাফিজুরের ভগ্নিপতি। ২০১৩ সালে বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনদিনব্যাপি অবরোধ ও হরতাল কর্মসুচি আহবান করে। এতে আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ শুরু হয়।

একপর্যায়ে ২২ ডিসেম্বর বিকেল ৬টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা এসএম শওকত হোসেন, জজ কোর্টের পিপি কামারবায়সা গ্রামের অ্যাড. আব্দুল লতিফ ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. ওকালত আলীর নেতৃত্বে সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনসহ ২ থেকে ৪৩ নং আসামী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালিন সভাপতি এসএম শওকত হোসেনের বাড়িতে গোপনে বৈঠক করে। বৈঠকে পুলিশসহ সকল আসামীরা হরতল ও অবরোধ সফল না হওয়ার পক্ষে যত রকম তৎপরতা প্রয়োজন তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

সাবেক পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, সদর সার্কেলের সাবেক সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান, সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক সিদ্ধান্তটি চুড়ান্ত করে। ২৪ ডিসেম্বর সকাল সাতটা থেকে সাতক্ষীরা- নাভারন সড়কের ঝাউডাঙা বাজারে জামায়াত বিএনপি’র নেতা কর্মীরা পিকেটিং করার সময় দুই দিক থেকে ২ থেকে ৪৩ নং আসামীরা সেখানে পৌঁছায়। সকাল ৯টার দিকে তারা পিকেটারদের লক্ষ্য করে লেড বল, টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনসহ ১৪ থেকে ৪৩ নং আসামীরা পিকেটারদের মারপিট করে। ইয়ারব হোসেনসহ পাঁচজন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর ও সদর সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানকে মোবাইলে খবর দিয়ে বাদির শ্যালক হাফিজুরকে মারিপট করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ভিকটিম হাফিজুরকে ঝাউডাঙা বাজারের হারানের দোকানের পাশে এনে তার নাকের মধ্যে গুলি করে। গুলি মাথার খুলি ভেঙে বেরিয়ে যায়। পরে পুলিশের পিকআপে করে হাফিজুরের লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে হাফিজুরের লাশ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় মসজিদের সামনে নামাজে জানাযা শেষে হাফিজের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরের নির্দেশে থানায় গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অনুকুল হওয়ায় গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভগ্নিপতি সলেমান সরদার বাদি হয়ে সাতক্ষীরার আমলী প্রথম আদালতে তৎকালিন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন বিচারক নয়ন কুমার বড়াল।

(আরকে/এএস/জানুয়ারি ২৫, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

২৮ মার্চ ২০২৫

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test